Main Menu

শরীয়তপুরে শতাধিক সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় ঝুঁকিপূর্ন যেকোন সময় ধসে পড়ার আশংকা, শিক্ষা কার্যক্রম ব্যাহত

॥ স্টাফ রিপোর্টার ॥ শরীয়তপুর জেলায় প্রায় শতাধিক সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় দীর্ঘদিন যাবৎ অত্যন্ত জরাজীর্ন ও ঝুকিপূর্ন অবস্থায় রয়েছে। জীবনের ঝুঁকি নিয়ে শিক্ষক ও ছাত্রছাত্রীরা পাঠদান করছে। যেকোন সময় ধসে পড়ে বড় ধরনের দূর্ঘটনার আশংকা রয়েছে। সংশ্লিষ্ট বিভাগীয় উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষকে বার বার লিখিত ভাবে অবহিত করার পরেও কোন কার্যকরী ব্যবস্থা নেয়নি বলে জানিয়েছেন শিক্ষক ও জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা। ঝুঁকিপূর্ন বিদ্যালয় গুলো থেকে ছাত্রছাত্রিরা অন্যত্র চলে যাচ্ছে। পাশাপাশি অনেকে ভয়ে স্কুলে আসছেনা। এতে করে প্রাথমিক শিক্ষার গুনগতমান ও বাধ্যতামূলক প্রাথমিক শিক্ষা কার্যক্রম মারাতœক ভাবে ব্যাহত হচ্ছে।
জেলা শিক্ষা কর্মকর্তার কার্যালয় ও স্থানীয় সূত্রে জানাগেছে, শরীয়তপুর জেলার সদর, জাজিরা , নড়িয়া, ভেদরগঞ্জ ও গোসাইরহাট উপজেলায় প্রায় শতাধিক সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় দীর্ঘ ৩/৪ বছর যাবৎ জরাজীর্ন এবং অত্যন্ত ঝুকিপূর্ন অবস্থায় রয়েছে। বিদ্যালয় গুলোর ছাদের আস্তর দেয়ালের প্লাষ্টার খসে খসে পড়ছে। ভবনের কলাম গুলো আস্তর ভেঙ্গে রড বের হয়ে গেছে। একটু বৃষ্টি হলে ছাদ দিয়ে পানি পড়ে প্রয়োজনী কাগজপত্র সহ বইপত্র ভিজে যায়। মাঝে মধ্যে বড় বড় আস্তর খসে ছাত্র ছাত্রী ও শিক্ষকদের উপর পড়ে অনেকেই আহত হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। এ সকল ঝুকিপূর্ন বিদ্যালয় গুলোতে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে শিক্ষক ও ছাত্রছাত্রীরা পাঠদান করছে। যেকোন সময় বিদ্যালয়ের ছাদ ধসে পড়ে বড় ধরনের দূর্ঘটনার আশংকা রয়েছে। ধসে পড়ার আশংকায় বিদ্যালয়ের অনেক ছাত্রছাত্রি জীবনের ভয়ে অন্যত্র চলে যাচ্ছে। আবার কোন কোন বিদ্যালয়ের কচিকাচা শিশুরা ভয়ে স্কুলেই আসতে ভয় পাচ্ছে। এতে করে ছাত্রছাত্রির উপস্থিতি আগের চেয়ে কমে গেছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষকরা। মারাতœক ঝুকিপূর্ন বিদ্যালয়ের মধ্যে রয়েছে শরীয়তপুর সদর উপজেলার দক্ষিন মধ্যপাড়া সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়, পশ্চিম কোয়ারপুর সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়, উত্তর কোয়ারপুর সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়, পূর্ব আটপাড়া সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়, ধানুকা সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়, গ্রাম চিকন্দি সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়, পালং সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়, সারেংগা সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়।
জাজিরা উপজেলার বড়কান্দি সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়, সুরতখার কান্দি সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়,কলমিরচর সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়, কুন্ডেরচর হাসেম আলী সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়,দক্ষিন দড়িকান্দি সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়, সারেং কান্দি সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়, রামকৃষ্ঞপুর সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়, বোয়ালিয়া সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়, চরধুপুরিয়া সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়, নাওডোবা হাট বিকেনগর কাজি কান্দি সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়, মনাই ছৈয়াল কান্দি সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় , উত্তর ছোট মুলনা সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়, ভানু মুন্সির কান্দি সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়, মানিক নগর মোল্যা কান্দি সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়, হাজী আঃ মজিদ বেপারী কান্দি সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়, পাইনপাড়া হাজী অছিমদ্দিন সরকারী প্যাথমিক বিদ্যালয়, খলিফা কান্দি সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়, বিকে নগর হাওলাদার কান্দি সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়,উত্তর ডুবলদিয়া আকন কান্দি সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়, গজনাইপুর সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়, রাড়িপাড়া আদর্শ সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়, পাইনপাড়া হাজী অছিমদ্দিন মাঃকাঃ সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়, কাচারী কান্দি সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়, রুপবাবুরহাট সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়, হাজী খোরশেদ আকন কান্দি সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়, দক্ষিন আফজাল উদ্দিন মুন্সি কান্দি সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়,হাজী আঃ মজিদ মল্লিকের কান্দি সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়, বড় গোপালপুর দলিল উদ্দিন আকন কান্দি সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়, বিকেনগর সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়, উত্তর বাইকশা সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়, মানিক নগর সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়, বড় মুলনা সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়, দুবাডাঙ্গা সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়, উত্ত্র কেবল নগর খান কান্দি সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় ,সেনেরচর আফজাল উদ্দিন মুন্সি কান্দি সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়। নড়িয়া উপজেলার চরজুজিরা সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়, চর নড়িয়া সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়, পশ্চিম পাচগাও সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়,পঞ্চপল্লী সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়, ভড্ডা কান্দাপাড়া সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়,লক্ষীপুর সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়, ডাইনগাও সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়, মোক্তারের চর ত্রিপল্লী প্রাথমিক বিদ্যালয়, সুরেশ্বর সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়, পূর্ব পুনাইখার কান্দি সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়, চেঃ বেঃ কাঃ গফুর সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়,ঠাকুর কান্দি সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়, স্বর্নখোলা সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়, মশুরা সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়, ক্রোকিরচর সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় ।ভেদরগঞ্জ উপজেলার ছুরির চর সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়, সখিপুর মাঝি বাড়ি সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়, সখিপুর মোল্যা বাড়ি সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়,সখিপুর সরকার বাড়ি সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়, সখিপুর রাড়ি বাড়ি সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়,পাইয়াতলী সরদার বাড়ি সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়,ঢালি কান্দি ঢালি বাড়ি সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়,ডিএম খালী হক মাষ্টার বাড়ি সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়, কাদির সরকার কান্দি সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়, চর সাজনপুর সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়, চরকুমারিয়া সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়, চরহোগলা সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়, ডিএম খালি আলী আকবর রাড়ি সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়, চরভয়রা সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়, পেদাবাড়ি সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়,চরভাগা পাইকবাড়ি সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়,খাস গাজিপুর সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়, লক্ষী নারায়ন সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়, কদমতলী মোল্যা বাড়ি সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়,চরসেন্সাস সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়,দুদুমিয়া বেপারী কান্দি সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়, প্রগতি বিদ্যানিকেতন সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়,কদমতলী আখন্দ কান্দি সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়, চরশিরিশ সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়, হাজিয়াবাদ সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়। গোসাইরিহাট উপজেলার চরমাদারিয়া সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়,দক্ষিন কোদালপুর নতুন বাজার সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়,ছৈয়াল পাড়া নান্নু মুন্সির কান্দি সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়, মহেশ্বরপট্্ির সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়, কাশিখন্ড সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়,উত্তর চর জালালপুর সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়,উত্তর নাগেরপাড়া মুসলিম সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়,উত্তর মংচড়া সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়,সামন্তসার সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়,বিনটিয়া সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়,দক্ষিন রানীসার সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়,দাইমী কোদালপুর সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়। ইতোমধ্যে পদ্মার ভাংগনে ৬টি বিদ্যালয়ের কোন ভবন বা ঘর নেই। অন্যত্র খোলা আকাশের নিচে বা পরের ঘরে পাঠদান করানো হচ্ছে। কতৃপক্ষের কাছে বার বার লিখিত ভাবে জানানোর পরে ও বিদ্যালয় গুলোকে পুনঃনির্মানের কোন উদ্যোগ নেয়নি বলে অভিযোগ করেছে স্কুল কমিটি ও শিক্ষকেরা। জরুরী ভিত্তিতে বিদ্যালয় গুলোর নূতন ভবন নির্মান ও পুনঃনির্মানের দাবী জানিয়েছে এলাকাবাসি ও কাচকাচা ছাত্রছাত্রিরা।
পালং স্কুলের ৫ম শ্রেণীর ছাত্র বিকাশ চন্দ্র বলেন, আমাদের স্কুল জরাজীর্ন ও ঝুকিপুর্ন থাকায় বাবা মা স্কুলে পাঠাতে ভয় পায়। কোন সময় নাকি দুর্ঘটনা ঘটে যায়। আমরা ভয়ে ভয়ে ক্লাস করি।
দক্ষিন মধ্যপাড়া সরকারী প্রথমিক বিদ্যালয়ের ৪র্থ শ্রেনীর ছাত্রী সুমি বলেন, আমরা জীবনের ঝুকি নিয়ে পাঠদান করি। মাঝে মধ্যে ছাদের প্লাষ্টার ও ইট বালু খসে আমাদের মাথায় পড়ে অনেকে আহত হয়। অনেকে স্কুলে আসতে ভয় পায়। অনেকে অন্য স্কুলে চলে যাচ্ছে।
দক্ষিন মধ্যপাড়া সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সামসুন্নাহার বেগম বলেন, দীর্ঘ ৩/৪ বছর যাবত আমাদের স্কুলটি জরাজীর্ন ও ঝুকিপূর্ন। এ অবস্থায় জীবনের ঝুকি নিয়ে পাঠদান করানো হচ্ছে। অনেক ছাত্রছাত্রী ভয়ে স্কুলে আাসেনা। আবার অনেকে অন্যত্র চলে যাচ্ছে। যেকোন সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনার আশংকা রয়েছে। এতে আমাদের স্কুলে শিক্ষার গুনগত মান বিনষ্ট হচ্ছে। জরুরী ভিত্তিতে একটি নুতন ভবন দরকার।
পালং সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মালেকা জেসমিন বীথি বলেন, দীর্ঘদিন যাবৎ আমাদের স্কুলটি অত্যন্ত ঝুকিপূর্ন অবস্থায় রয়েছে। ইতোমধ্যে কয়েকজন জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসক গন পরিদর্শন করেছেন। আমরা লিখিত ভাবে বার বার জানানোর পরেও কোন সুরাহা পাইনি। যেকোন সময় ভবনটি ধসে পড়ে বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতি হওয়ার আশংকায় ভুগছি।
শরীয়তপুর জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মোঃ আবুল কালাম আজাদ বলেন, শরীয়তপুর জেলায় প্রায় শতাধিক সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় জরাজীর্ন ও অত্যন্ত ঝুকিপূর্ন। বিদ্যালয় গুলো পরিদর্শন করে বর্তমান অবস্থা জানিয়ে উর্দ্ধতন কতৃপক্ষের নিকট লিখিত ভাবে জানানো হয়েছে। এখনো কোন বরাদ্ধ পাওয়া যায়নি। আশা করছি কর্তৃপক্ষ জরুরী ভিত্তিতে বরাদ্ধ দিয়ে এর একটি ব্যবস্থা করবেন।

 

Facebook Comments





error: Content is protected !!