Main Menu

পদ্মার ভাঙ্গনে শরীয়তপুরে ব্যাপক ক্ষয়-ক্ষতি

॥ স্টাফ রিপোর্টার ॥ বর্ষা শুরুর সাথে সাথে আগ্রাসী পদ্মার তার ভাঙন শুরু করে দিয়েছে।গত কয়েক দিনে জেলার নড়িয়া ও জাজিরা উপজেলায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। এ দুই উপজেলার তিনটি ইউনিয়নের ২ শতাধিক ঘরবাড়ি, জমি, মসজিদ মাদ্রাসা, স্কুল, সেতু কালভার্ট ও পাকা রাস্তা নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। এছাড়া ঝুঁকির মুখে রয়েছে হাজার হাজার একর জমি, শত শত ঘরবাড়ি, মসজিদ মাদ্রাসা ও রাস্তাঘাট। ভাঙনে ভিটে-মাটি ও সহায়-সম্বল হারিয়ে শত শত মানুষ উঁচু জমিতে বা রাস্তার পাশে মানবেতর জীবন কাটাচ্ছে। কেউ কেউ এলাকা ছেড়ে দূরে উচু এলাকায় আশ্রয়ের জন্য জমি ভাড়ার জন্য ছুটে বেড়াচ্ছেন।
সরেজমিনে দেখা গেছে, শুধুমাত্র নড়িয়া উপজেলার সুরেশ্বর এলাকার আট কিলোমিটার এলাকায় পদ্মার বাঁধ রয়েছে। বাকি এলাকা এখনো অরক্ষিত। জাজিরা উপজেলার কুন্ডেরচর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সালাহ উদ্দিন বেপারী বলেন, প্রতি বছরের মতো এবারও বর্ষা আসতে না আসতেই পদ্মা নদীতে পানি ¯্রােত বেড়ে যাওয়ায় জাজিরা ও নড়িয়া উপজেলার বিস্তীর্ণ এলাকায় ভাঙন শুরু হয়েছে।
গত৭/৮ দিনে নড়িয়ার মোক্তারের চর ইউনিয়নের ঈশ্বরকাঠি, শেহের আলী মাদবরকান্দি, চেরাগ আলী মাদবর কান্দি ও জাজিরা উপজেলার কুন্ডেরচর ইউনিয়নের কলমিরচর বেপারী কান্দি, ইয়াকুব বেপারী কান্দি, আইন উদ্দিন বেপারী কান্দি, মমিন খালাসী কান্দি, মাদবর কান্দি, ইউসুফ বেপারী কান্দি, বিলাসপুর ইউনিয়নের কাজিয়ারচরসহ তিনটি ইউনিয়নের ২ শতাধিক ঘরবাড়ি, বিপুল পরিমান জমিজমা, মসজিদ মাদ্রাসা পাকারাস্তা, ব্রীজ কালভাট, স্কুল,মাদ্রাসা ও মসজিদ ভবন নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। এ ছাড়া কালু বেপারী কান্দি স্কুল ও কলেজ, কাইয়ুম খার বাজার, ইয়াকুব মাদবর কান্দি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে বলে জানান এলাকাবাসী। প্রতি বছরই এ জেলার মানচিত্র থেকে একটু একটু করে ভুমি হারিয়ে যাচ্ছে। সরকারের পক্ষ থেকে স্থানীয় সংসদ সদস্য ও রাজনৈতিক ব্যক্তিরা ভাঙন রোধে স্থায়ী বেড়িবাঁধ নির্মাণের আস্বাস দিয়েছেন। সেই সাথে নদী ভাঙ্গা এলাকার ক্ষতিগ্রস্থ লোকজনদেরকে পুনর্বাসনের জন্য জেলা উপজেলা প্রশাসন এগিয়ে এলেও চাহিদার প্রয়োজনের তুলনায় অপ্রতুল। ।
সরেজমিনে নড়িয়া উপজেলার ঈশ্বরকাঠি গ্রামে দেখা গেছে, ভাঙন কবলিত মানুষ সহায় সম্বল নিয়ে বিভিন্ন স্থানে আশ্রয়ের জন্য ছুটোছুটি করছে। রাতের বেলায় পানির ভয়ে আতঙ্কিত হয়ে পড়েন তারা। কোন সময় তাদের সবকিছু ভাসিয়ে নেয়ার অতঙ্কে রয়েছেন তারা। ঈশ্বরকাঠি গ্রমের ইয়াকুব আলী বলেন, পদ্মা নদী থেকে আমার বাড়ি ছিল প্রায় ১০ কিলোমিটার দূরে। এখন পদ্মা নদীর ভাঙনে আমার বাড়ি ছুই ছুই করেছে। গত কয়েক দিনে আমাদের এলাকার অনেক বাড়িঘর পদ্মায় নদীতে বিলীন হয়ে গেছে। কাজিয়ারচরের সৈকত মিয়া বলেন, এখন আমরা কই যাইম কী খাইম কেমনে বাঁচুম কইতে পারি না। আমাগো সরকার সাহায্য করে আর কী দিবে? আমরা আল্লাহর সাহায্য চাই, আল্লাহ ছাড়া এ ভাঙন কেউ থামাতে পারবো না।
কুেন্ডরচর এলাকার হুমায়ুন খান বলেন, প্রতি বছর বর্ষা আসলেই জাজিরা ও নড়িয়া উপজেলার পদ্মানদীর তীব এলাকায় ভাঙন শুরু হয়। এ বিষয়ে নড়িয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সানজিদা ইয়াসমীন বলেন, স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান এলাকায় না থাকার কারণে ভাঙনের খবর পেতে দেরি হয়েছে। আমরা নদী ভাঙ্গন কবরি মানুষের জন্য সম্ভব সবই করব।

Facebook Comments





error: Content is protected !!