Main Menu

শৌলপাড়ায় কৃষকের পাট নষ্ট করে ধান বপনের অভিযোগ

নষ্ট করা পাট খেতে ক্ষতিগ্রস্থ পরিবার। ছবি-দৈনিক হুংকার।

শরীয়তপুর সদর উপজেলার শৌলপাড়া ইউনিয়নের পূর্ব সারেঙ্গা গ্রামের কৃষক আব্দুর রাজ্জাক হাওলাদার নিজের জমিতে পাট বপন করে। ১৬ এপ্রিল মঙ্গলবার সেই ক্ষেতে ট্রাক্টর চালিয়ে পাট ধ্বংস করে নতুন করে ধান বপনের অভিযোগ উঠেছে একই এলাকার মজিদ হাওলাদারের বিরুদ্ধে। এ বিষয়ে স্থানীয় মেম্বার ও মুরব্বিদের সমন্বয়ে সমঝোতার চেষ্টা করে ব্যর্থ হয়ে থানায় যাওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন তারা। এ বিষয়ে থানায় এসে অভিযোগ করেছেন কৃষক রাজ্জাক হাওলাদার।
ক্ষতিগ্রস্ত পরিবার ও স্থানীয় সূত্র জানায়, প্রায় ১৫ বছর পূর্বে শৌলপাড়ার সারেঙ্গা এলাকায় রব হত্যা মামলায় রাজ্জাক হাওলাদার আসামী হয়। সেই থেকে স্বপরিবারে রাজ্জাক হাওলাদার নারায়নগঞ্জে অবস্থান করত। সারেঙ্গা মৌজায় রাজ্জাক হাওলাদারের ৪৮ শতাংশ ফসলি জমি ছিল। সেই জমি রাজ্জাক হাওলাদার তার বংশের মজিদ হাওলাদারের কাছে ২ হাজার ৫০০ টাকা বার্ষিক খাজনায় হস্তান্তর করে যায়। মজিদ হাওলাদার নিয়মিত খাজনা পরিশোধ করে সেই জমি ভোগ করে আসছিল। গত তিন বছর ধরে খাজনা পরিশোধ না করায় এ বছর রাজ্জাক হাওলাদার নিজেই জমিতে পাট বপন করে। পাট বেশ বেড়েও ওঠে। গতকাল মঙ্গলবার দুপুরে সেই পাট ট্রাক্টর চালিয়ে নষ্ট করে মজিদ হাওলাদার ধান বপন করেছে। রাজ্জাক হাওলাদারের মেয়েরা বাঁধা দেয়ায় মজিদ হাওলাদার তার ছেলে ও ভাতিজাদের নিয়ে রাজ্জাক হাওলাদারের মেয়েদের উপর হামলা করে। সংবাদ পেয়ে রাজ্জাক হাওলাদার নারায়নগঞ্জ থেকে এলাকায় এসে স্থানীয় মেম্বার লিয়াকত হোসেনসহ গণ্যমান্যদের বিষয়টি অবগত করেছে। স্থানীয়দের পরামর্শে সে থানার অভিযোগ করেছে।
নষ্টকরা পাট ক্ষেতের উত্তর পাশের জমির মালিক প্রত্যক্ষদর্শী রশিদ সরদার বলেন, এ জমিতে রাজ্জাক হাওলাদার পাট আবাদ করে। খুব ভালোভাবে পাট বেড়ে উঠছিল। গতকাল মজিদ হাওলাদার ট্রাক্টর দিয়ে সেই পাট নষ্ট করে নতুন করে ধান বপন করেছে। রাজ্জাক হাওলাদারের মেয়েরা এসে বাঁধা দেয়ায় মজিদ হাওলাদারের ছেলে ও ভাতিজাদের সাথে হাতাহাতি হয়েগেছে।
মজিদ হাওলাদার বলেন, প্রায় ১৫ বছর পূর্বে রাজ্জাক হাওলাদার এ জমি আমার কাছে বিক্রি করে যায়। এ জমির ওয়ারিশ ছিল তারা ৫ ভাই। ভাইদের একজন জাহাজে, একজন বিদেশে চাকরি করত তাই একসাথে হয়ে দলিল দিতে পারেনি। এতদিন আমিই জমিতে ভোগ দখলে ছিলাম। এরমধ্যে একদিন এসে সেই জমিতে পাট বীজ ছিটিয়ে গেছে। এখন ধান বপনের সময় হয়েছে তাই জমিতে ধান বপন করেছি।
স্থানীয় আ. হাই হাওলাদার বলেন, আমি মধ্যস্থতা করেই রাজ্জাক হাওলাদারের জমি মজিদ হাওলাদারের কাছে বিক্রি করে দেই। বিভিন্ন কারনে মজিদ হাওলাদার জমি দলিল করে নিতে পারেনি। ১৫ বছর পর সেই জমিতে এসে রাজ্জাক পাট বোনে। মজিদ হাওলাদার আবার সেই পাট নষ্ট করে ধান বোনে। বিষয়টি সমাধানের লক্ষ্যে সিরাজ খান, আজিজ হাওলাদার ও মজিবর হাওলাদারকে সাথে নিয়ে রাজ্জাক হাওলাদারের কাছে যাই। কোন সমাধান হয়নি।
স্থানীয় মেম্বার লিয়াকত হোসেন বলেন, রাজ্জাক হাওলাদার এসে জানায় তার জমির পাট নষ্ট করে মজিদ হাওলাদার ধান বপন করেছে। আমি তাদের থানায় যেতে পরামর্শ দিয়েছি।
তদন্তের দায়িত্বপ্রাপ্ত পালং মডেল থানার উপ-পুলিশ পরিদর্শক (এসআই) কাজী নজরুল ইসলাম বলেন, পাট নষ্ট করে ধান বপনের বিষয়ে একটা অভিযোগ পেয়েছি। বিষয়টি তদন্তপূর্বক আইনগত ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।

Facebook Comments





error: Content is protected !!