Main Menu

গোসাইরহাটে শিক্ষিকার পিটুনিতে ১১ শিশু শিক্ষার্থী অসুস্থ

গোসাইরহাটে শিক্ষিকার বিরুদ্ধে শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ। ছবি-দৈনিক হুংকার।

শরীয়তপুরের গোসাইরহাট উপজেলার ৮৫ নং প্যাদা কান্দি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষিকা মরিয়ম বেগমের পিটুনীতে বিদ্যালয়ের চতুর্থ শ্রেণির ১১ জন শিক্ষার্থী অসুস্থ হয়ে পড়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ ঘটনায় এলাকায় অভিভাবকদের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। শিক্ষার্থী ও শিক্ষার্থী অভিভাককের মধ্যে দেখা দিয়েছে উত্তেজনা। এ ঘটনায় বিদ্যালয়ের শিশু শিক্ষার্থীরা অভিযুক্ত শিক্ষিকার বিচারের দাবিতে বৃহস্পতিবার দুপুরে বিদ্যালয় সংলগ্ন রাস্তায় বিক্ষোভ মিছিল করে প্রতিবাদ জানিয়েছে। সহকারী উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা ও গোসাইরহাট থানা পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। ঘটনার সত্যতা পাওয়া গেলে অভিযুক্ত শিক্ষিকার বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে জানিয়েছেন জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মোঃ আবুল কালাম আজাদ।
স্থানীয় সূত্র ও চতুর্থ শ্রেণির নির্যাতিত ছাত্র সিয়াম, মাসুম, শাহিন ও প্রত্যক্ষদর্শী আমরিন আক্তারসহ অনেকে অভিযোগ করে বলেন, বুধবার টিফিনের পর চতুর্থ শ্রেণির শিক্ষার্থীরা সবাই শ্রেণিকক্ষে বসা ছিল। এ সময় সহকারী শিক্ষিকা মরিয়ম বেগমের পাঁচ বছর বয়সী ছেলে মোস্তাকিন শ্রেণিকক্ষে এসে পড়ে গিয়ে ব্যথা পেলে উক্ত শিক্ষিকা ছাত্রদের উপর দোষ চাপায়। এক পর্যায়ে উক্ত শিক্ষিকা ক্ষিপ্ত হয়ে বাইরে গিয়ে লাঠি এনে শ্রেণিকক্ষে থাকা ১১ জন ছাত্রকে বেদম মারপিট করে। এতে সিয়াম ও মাসুম গুরুতর আঘাত প্রাপ্ত হয়। তাদেরকে স্থানীয় ডাক্তার দিয়ে চিকিৎসা করানো হয়েছে। আহত সিয়ামের মা সালমা বেগম বলেন, মরিয়ম ম্যাডাম প্রতিদিন তার ছেলেকে নিয়ে বিদ্যালয়ে আসে। ছাত্র-ছাত্রীদের দিয়ে তার ছেলের সেবাযতœ করায়। উদ্দেশ্য মূলকভাবে লাঠি দিয়ে আমার ছেলেকে পিটিয়েছে। আমার ছেলের বাহু, পিঠসহ সারা শরীরে আঘাতের চিহ্ন। আমি এর জন্য বিচার চাই। শিক্ষার্থীরা জানায়, এ ম্যাডাম শিক্ষার্থীদের সাথে খুব খারাপ আচরণ করে। ম্যাডাম তার ছেলের গোসল, ময়লা কাপড় ধোয়া ও মলমূত্র পরিস্কারের কাজে শিক্ষার্থীদের ব্যবহার করে। ম্যাডামের কথামতো কাজ না করলে পেটায়। আমরা এ ম্যাডাম চাই না। এ ম্যাডামের বিচার চাই।
অভিযুক্ত সহকারী শিক্ষিকা মরিয়ম বেগম শিক্ষার্থীদের পিটুনী দেয়ার কথা স্বীকার করে বলেন, উপস্থিত ছাত্ররা শ্রেণীকক্ষে দুষ্টামি করছিল। তখন একটা দুর্বল লাঠি দিয়ে প্রত্যেককে একটি করে পিটান দেই। যাতে কারো কোন অভিযোগ না থাকে। এ বিষয়ে জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. আবুল কালাম আজাদ বলেন, আমি এ বিষয়ে খোঁজ নিয়ে দেখব। সত্যতা পেলে অভিযুক্ত শিক্ষিকার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

Facebook Comments





error: Content is protected !!