Main Menu

শরীয়তপুরে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষকদের দাবী আদায়ের লক্ষ্যে মানববন্ধন

সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সহকারী শিক্ষক ও প্রধান শিক্ষকের মধ্যে বৈষম্যপূর্ণ বেতল স্কেল সংশোধন, সহকারী প্রধান শিক্ষকের পদ সৃষ্টি না করা ও সহকারী শিক্ষক পদকে এন্ট্রিপদ ধরে শতভাগ পদোন্নতি নিশ্চিত করণের লক্ষে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেছে শরীয়তপুর জেলার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষকগণ। বাংলাদেশ প্রাথমিক সহকারী শিক্ষক সমাজ শরীয়তপুর জেলা শাখার আয়োজনে বৃহস্পতিবার বিকাল ৩টায় শরীয়তপুর জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে ঘন্টাব্যাপী এ মানববন্ধন করা হয়। জেলার ৭শতাধিক সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রায় ৩ হাজার সহকারী শিক্ষক এ মানববন্ধন কর্মসূচিতে অংশগ্রহন করেন। এ সময় তারা দাবী আদায়ের লক্ষে বিক্ষোভ মিছিলও করেন। পরে তারা একই দাবীতে জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে গনপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেরশ সরকারের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বরাবর স্মারকলিপি প্রদান করেন।
মানববন্ধন থেকে শিক্ষক নেতারা বলেন, আমরা জানতে পারলাম প্রধান শিক্ষকদের পদকে দ্বিতীয় শ্রেণীতে (১০ম গ্রেড) উন্নিত করা হচ্ছে। স্বাধীণ বাংলায় প্রধান শিক্ষক ও সহকারী শিক্ষকগণদের একধাপ ব্যবধানে বেতন-ভাতাদি প্রদান করা হতো। বর্তমানে তা তিনধাপ ব্যবধানে পৌঁছেছে। ভবিষ্যতে প্রধান শিক্ষকদের ১০ম গ্রেডে উন্নিত করা হলে তা আরো একধাপ এগিয়ে যাবে। তখন বেতন বৈষম্য পৌঁছবে ৪ ধাপে।
নেতারা আরো বলে, উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা, সহকারী উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা ও প্রধান শিক্ষকদের বেতন স্কেল একধাপ ব্যবধানে প্রদান করা হয়। সেক্ষেত্রে সহকারী শিক্ষদের বেতন স্কেল ৩ থেকে ৪ ধাপের ব্যবধান করা হলে মানসম্মত প্রাথমিক শিক্ষার সমন্বিত প্রচেস্টা ব্যাহত হবে। প্রধান শিক্ষক প্রশাসনিক দিক নিয়ন্ত্রন করেন আর সহকারী শিক্ষকগণ মানসম্মত শিক্ষার সমন্বিত প্রচেষ্টা চালায় তাই বেতন স্কেল ১ধাপের বেশী ব্যবধানের সুযোগ নাই। প্রধান শিক্ষক ১০ম গ্রেডে বেতন পেলে আমাদের ১১তম স্কেলে বেতন প্রদান করতে হবে বলে দাবী জানান।
তারা বলেন, সহকারী প্রধান শিক্ষকের পদ সৃষ্টি করা হলে আমাদের আর পদোন্নতি হবে না। তখন আমাদের সারাজীবন সহকারী শিক্ষক পদেই চাকুরী করতে হবে। সহকারী শিক্ষক পদকে এন্ট্রিপদ ধরে শতভাগ পদোন্নতি দিতে হবে। প্রধান শিক্ষকের পরের ধাবে বেতন পাওয়া আমাদের অধিকার। আমাদের অধিকার থেকে বঞ্চিত করা হলে আমরা আরো কঠোর কর্মসূচি গ্রহন করতে বাধ্য হব।
সেক্ষেত্রে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষকরা আশাকরেন তাদের দুঃখ দূর্দশা দূরকরতে এবং শিক্ষাবান্ধব পরিবেশ ফিরিয়ে আনতে প্রধান শিক্ষকদের পরের ধাপে আমাদের বেতন স্কেল নির্ধারণ করে প্রধান মন্ত্রী শেখ হাসিনা শিক্ষক ও জনবান্ধব সরকারের দৃষ্টান্ত স্থাপন করবেন।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন শরীয়তপুর জেলা সহকারী শিক্ষক সমাজের সভাপতি মিজানুর রহমান চৌধুরী শাহিন, সাধারণ সম্পাদক গোবিন্দ চন্দ্র দত্ত, দপ্তর সমাপদক রফিকুল ইসলাম, সদর উপজেলা শিক্ষক সমাজের সভাপতি দেলোয়ার হোসেন, সাধারণ সম্পাদক লিয়াকত আলী খান, গোসাইরহাট উপজেলা শিক্ষক সমাজের সাধারণ সম্পাদক মিজান পঞ্চায়েত, ভেদরগঞ্জ শাখার সভাপতি মো. আবু সাঈদ সরদার, নড়িয়া উপজেলা সাধারণ সম্পাদক তৌহিদুল ইসলাম বিপ্লব, ডামুড্যা উপজেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক হারুন অর রশিদ, জাজিরা শাখার সাধারণ সম্পাদক আল ইসলাম, বাংলাদেশ প্রাথমিক শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক সিরাজুল হক সুজন, যুগ্ম সম্পাদক রাজেন্দ্র চন্দ্র দাস, শিক্ষক নেতা মো. সেলিম, মো. হায়দার আলী, শরীয়তপুর পিটিআই’র শিক্ষক প্রতিনিধি শামীম আজাদ, মেহেদী হাসান, আব্দুল আলিম সোহেল, হান্নান প্রমূখ।

 

Facebook Comments





error: Content is protected !!