Main Menu

প্রাক প্রাথমিক শিক্ষার গুরুত্ব

॥ সানজিদা ইয়াছমিন ॥
শিক্ষা মানব জীবনের সাথে অতপ্রোতভাবে জড়িত। শিক্ষার প্রধান কাজ হলো মানব সম্পদ উন্নয়ন করা। সমাজে মানব সম্পদ উন্নয়ন ঘটাতে না পারলে কেবলমাত্র বহুমুখি উন্নতিদ্বারা সামাজিক অগ্রগতির ধারাকে বজায় রাখা সম্ভব হয় না। আর এই মানব সম্পদ উন্নয়নের প্রধান কৌশল হলো শিক্ষা। মানব সম্পদ উন্নয়নের লক্ষ্যে শিক্ষার কোন বিকল্প নেই। যে দেশের শিক্ষা ব্যবস্থা যত উন্নত অর্থাৎ সামাজিক প্রেক্ষিতে সে দেশ তত উন্নত। সমকালীন জ্ঞান বিজ্ঞানের উৎকর্ষ সাধন এবং নুন্যতম সামাজিক মর্যাদায় জীবন যাপনের জন্য সর্বোপরি প্রাথমিক শিক্ষা বুনিয়াদি প্রতিষ্ঠা মাধ্যমিক শিক্ষার প্রস্তুতি গ্রহণের জন্য প্রাথমিক শিক্ষার গুরুত্ব অপরিসীম।
মানুষ ¯্রস্টার শ্রেষ্ঠ সৃষ্টি। মানুষকে তিনি সৃষ্টি করেছেন অপরিমেয় সম্ভাবনা দিয়ে। যে প্রক্রিয়ার সহায়তায় এ সকল সম্ভাবনা ও প্রচ্ছন্ন শক্তির সার্বিক বিকাশ ঘটে তাকে বলে শিক্ষা। শিক্ষা একটি প্রক্রিয়া বিশেষ। শিক্ষা একটি উপায়। শিক্ষা কখনও আনুষ্ঠানিক কখনও অনানুষ্ঠানিক প্রাথমিক শেক্ষা মৌলিক শিক্ষা, এই শিক্ষা সবাইকে নিতেহবে।
শিশুদের জন্য আনুষ্ঠানিক শিক্ষা শুরু করার আগে শিশুর অন্তর্নিহিত অপার বিস্ময়বোধ, অসীম, কৌতুহল, আনন্দবোধ ও অফুরন্ত উদ্যমের মতো সর্বজনীন মানবিক বৃত্তির সুষ্ঠু বিকাশ এবং প্রয়োজনীয় মানসিক ও দৈহিক প্রস্তুতি গ্রহণের পরিবেশ তৈরি করা প্রয়োজন। তাই তাদের জন্য বিদ্যালয় প্রস্তুতিমূলক প্রাক প্রাথমিক শিক্ষার ব্যবস্থা করা জরুরি। অন্যান্য শিক্ষার সঙ্গে একত্রে এই প্রস্তুতিমূলক শিক্ষা শিশুর মধ্যে শিক্ষার প্রতি আগ্রহ সৃষ্টিতে সহায়ক হবে। কাজেই ৫+ বছর বয়স্ক শিশুদের জন্য প্রাথমিকভাবে এক বছর মেয়াদী প্রাক প্রাথমিক শিক্ষা চালু করা হয়েছে। এই পর্যায়ে শিক্ষাক্রম হবেঃ
শিক্ষা ও বিদ্যালয়ের প্রতি শিশুর আগ্রহ সৃষ্টিমূলক এবং সুকুমার বৃত্তির অনুশীলন।
অন্যদের প্রতি সহনশীলতা এবং পরবতৃী আনুষ্ঠানিক শিক্ষার জন্য শৃঙ্খলাবোধ সম্পর্কে ধারনা লাভ। অন্যান্য গ্রহণযোগ্য উপায়ের সঙ্গে ছবি, রং নানা ধরণের সহজ আকর্ষনীয় শিক্ষা উপকরণ, মডেল, হাতের কাজের সঙ্গে ছড়া, গল্প, গান ও খেলার মাধ্যমে প্রাক প্রাথমিক শিক্ষাদানের ব্যবস্থা করা আবশ্যক।
শিশুদের স্বাভাবিক অনুসন্ধিৎসা ও কৌতুহলের প্রতি শ্রদ্ধাশীল থেকে তাদের স্বাভাবিক প্রাণশক্তি ও উচ্ছ্বাসকে ব্যবহার করে আনন্দময় পরিবেশে মমতা ও ভালোবাসার সঙ্গে শিক্ষা প্রদান করা । শিশুদের সুরক্ষার বিষয়টি নিশ্চিত করা যেন তারা কোনভাবেই কোনরকম শারীরিক ও মানসিক অত্যাচারের শিকার না হয়।
প্রাক প্রাথমিক শিক্ষার জন্য প্রতি বিদ্যালয়ে বাড়তি শিক্ষকের পদ সৃষ্টি ও শ্রেণীকক্ষ বৃদ্ধি করা হয়েছে। তবে সময়সাপেক্ষ ও ব্যয়বহুল হওয়ায় ধাপে ধাপে তা বাস্তবায়নের ব্যবস্থা করা হচ্ছে।
মসজিদ, মন্দির, গীর্জা ও প্যাগোডায় ধর্ম মন্ত্রণালয় কর্তৃক পরিচালিত সকল ধর্মের শিশুদেরকে ধর্মীয়জ্ঞান অক্ষরজ্ঞানসহ আধুনিক শিক্ষা ও নৈতিকতা শিক্ষা প্রদানের কর্মসূচী প্রাক প্রাথমিক শিক্ষার অংশ হিসেবে গণ্য করা হয়।
শিশুর সৃজনশীল চিন্তা ও দক্ষতার প্রসারের জন্য সক্রিয় শিক্ষণ পদ্ধতি অনুসরণ করে শিক্ষার্থীকে এককভাবে বা দলগতভাবে কার্য সম্পাদনের সুযোগ দেওয়া প্রয়োজন। ফলপ্রসূ শিক্ষাদান পদ্ধতি উদ্ভাবন, পরীক্ষণ ও বাস্তবায়নের জন্য গবেষণা উৎসাহিত করা এবং সে জন্য সহায়তা দেওয়া আবশ্যক।
লেখক: উপজেলা নির্বাহী অফিসার, নড়িয়া, শরীয়তপুর।

Facebook Comments





error: Content is protected !!